ওপেন বুক এক্সাম নিয়ে কিছু কথা...

Open Book Exam আসলে কী?

Open Book Exam বা বই খুলে পরীক্ষা মানে হচ্ছে পরীক্ষার হলে বই, খাতাপত্র, নোট বা গাইড খুলে দেখে দেখে উত্তর করা যাবে।

‘বই খুলে পরীক্ষা’ এটা আবার কেমন পরীক্ষা?

এরই মধ্যে অনেকেরই হয়ত চোখ কপালে উঠে গেছে। ‘বই খুলে পরীক্ষা!!!’ এটা আবার কেমন পরীক্ষা? কারণটা বোঝার চেষ্টা করা যাক।

আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, ‘না বুঝে মুখস্থ করার অভ্যাস প্রতিভাকে ধ্বংস করে।’ বই খুলে পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্যই এটা যে তুমি কতটা ‘তথ্য’ মুখস্থ করেছো সেটা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং সেটা থেকে তুমি কী বুঝলে এবং কতটা প্রয়োগ করতে পারলে সেটাই আসল। এ ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে আসলে আমরা দেখতে চাই-

  • পাঠ্যবিষয়গুলো নতুন নতুন ক্ষেত্রে কতটা প্রয়োগ করতে পারো
  • বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে কতটা সমন্বয় সাধন করতে পারো এবং
  • নতুন একটা বিষয় কীভাবে বিশ্লেষণ করতে পারো

মোট কথা সৃজনশীলতার উন্মেষের পাশাপাশি গঠনমূলক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তোলাটাই এ জাতীয় পরীক্ষার মূল লক্ষ্য।

কী ধরনের প্রশ্ন আসবে?

যেহেতু এ পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্যই হল বিষয়ভিত্তিক স্বচ্ছ ধারণাকে উৎসাহ প্রদান আর সৃজনশীল চিন্তাকে উদ্বুদ্ধ করা, তাই তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন আসবে না বললেই চলে অর্থাৎ ‘গিনি ও পালক পরীক্ষাটি কে করেন?’ কিংবা ‘মানবদেহের হাড় কয়টা’ এধরনের সরাসরি প্রশ্ন করা হবে না যার উত্তর বই থেকে উত্তরপত্রে স্থানান্তর করা যায়। বরং সিলেবাসের মধ্যে থেকেই এমন প্রশ্ন আসবে যেটার মাধমে প্রমাণ হবে তুমি আসলে ঐ Topic বুঝেছ কিনা।

তাহলে বই খুলে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিব কীভাবে?

সনাতন মুখস্থনির্ভর পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিলে তা এই পরীক্ষায় কোন কাজে আসবে না। যখন তুমি দেখবে বই থেকে সরাসরি কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছ না, তখন তোমার মনে হবে মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা কতটা অসাড় আর এখানেই এ পরীক্ষার সাফল্য।। প্রতিটি বিষয়ের গভীরে জানা এবং বাস্তব সমস্যার উপযোগী করে তাকে প্রয়োগ করতে পারাটাই আসলে সৃজনশীলতা। আমাদের দেশে এখনও বাচ্চারা অংকের নাম্বার দেখে মনে রাখে এটা ‘ল.সা.গু.’ দিয়ে করতে হবে না ‘গ.সা.গু.’ দিয়ে করতে হবে কিংবা ওটা কয় নম্বর উপপাদ্য। এই পরীক্ষার পদ্ধতি এসবের বিরুদ্ধেই এক নীরব প্রতিবাদ। সহজ কথায় এই পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রতিটি Topic তোমাকে ভালো করে বুঝতে হবে এবং প্রতিটি জিনিস ‘কেন হল’ তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

শেষের কথা: সৃজনশীলতার গুরুত্ব

বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট কত বড় তথ্যের উৎস তা বলাই বাহুল্য। একটা বার চিন্তা করে দেখেছ কি যে একজন মানুষ সারা জীবন ধরে মুখস্থ করে গেলেও শুধুমাত্র উইকিপিডিয়াতেই যত তথ্য আছে তার হাজার হাজার ভাগের এক ভাগও মুখস্থ করতে পারবে না, আর তার দরকারও নেই। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তথ্য মুখস্থ রারখার প্রয়োজনীয়তা তো আরও কমে গেছে, যেহেতু এখন হাতের মুঠোয়: মুঠোফোন আর ইন্টারনেটের মাধ্যমেই জানা যায় পৃথিবীর সব খবর।

তাহলে মানুষের মস্তিষ্কের প্রয়োজনটা কোথায়? একটু ভেবে দেখলেই বুঝা যায়, তথ্য মুখস্থ করার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক দেয়া হয়নি বরং সেটা এক প্রকার অপব্যবহার। আইনস্টাইন নিজেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন-কল্পনাশক্তিকে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা প্রায় প্রত্যেকেই অসামান্য সৃজনশীলতা আর কল্পনাশক্তি নিয়ে জন্মায় কিন্তু মুখস্থ নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে তারা একসময়ে চিন্তা করতে ভুলে যায়। জাতি হিসেবে সেখানেই আমাদের আত্মিক মৃত্যু ঘটে। প্রগতিশীল চিন্তাধারার এ বিশ্বে সৃজনশীলতার গুরুত্ব খাতা কলমে আর বড় বড় প্রবন্ধ রচনার মধ্যে গণ্ডীবদ্ধ রাখার দিন আর নেই। সময় এখনই ঘুরে দাঁড়াবার। সে লক্ষ্যেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস...

পরিচালকদ্বয়

উদ্ভাস একাডেমিক এন্ড এডমিশন কেয়ার