পরিচালকের বার্তা

আমাদের বর্তমান বাস্তবতায় বেশিরভাগ জিনিসই ‘অধিকার’ থেকে ‘সুযোগ’ এর পরিচয়ে রূপান্তরের দিকে। শিক্ষাও হয়তো তাই আজ ‘অধিকার’ নয়, ‘সুযোগ’। আর সেই ‘সুযোগ’ এর পরিচয়ে বিদ্ধ হয়ে শিক্ষার মূলকগুলোই কালের অতল গহ্বরে বিস্মৃত প্রায়। তারই প্রমাণ পাই আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে বিশাল বইয়ের ব্যাগ পিঠে একদল ছাত্র/ছাত্রী নামধারী নিষ্প্রাণ মানুষের চলাফেরায়।

আমাদের চাওয়া শিক্ষা এই বাজার কেন্দ্রিক, পেশা-কেন্দ্রিক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুক। আমরা চাই মানুষ তার ‘মানুষ’ নামের সুবিচার করুক। শুধু নির্দিষ্ট বইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর লিখে সাফল্যের মালা গলায় ঝুলালেই ‘মানুষ’ নামের সুবিচার হয় না। আজ তাই আমরা মননশীলতার মৃত্যু সহ্য করি অবলীলায়।

এই অনুভূতিগুলো থেকেই আমাদের কিছু করার প্রেরণা, ‍কিছু করার প্রয়াস। তারই পরম্পরায় জন্ম হয় উদ্ভাসের। প্রমিথিউস স্বর্গের থেকে আগুন এনে মর্ত্যে জ্বেলেছিলেন, অন্ধকার ভেদ করে আলোর কথা শুনিয়েছিলেন। আমরা প্রমিথিউস নই, তবুও স্বপ্ন দেখি আলোর কথা শোনার এবং শোনানের।